Search
Close this search box.

শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে বিতর্কিত কর্মকর্তার পুনর্বাসন: শিক্ষা অঙ্গনে চরম ক্ষোভ ও সমালোচনা

অহনা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী এবং বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনরায় পদায়নের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিগত তিন শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মো. মুছিবুল হাসান রিপু-কে পুনরায় শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে পদায়ন করায় শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ বলয় ফের এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সক্রিয় হয়ে উঠছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, মুছিবুল হাসান রিপু বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে শিক্ষা প্রশাসনে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।

 ২০০৮ সালে স্টেনো কাম টাইপিস্ট হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ২০০৯ সালে কারিগরি শাখায় বদলি হন। এরপর ২০১২ সালে তৎকালীন মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পিএসের পিও হওয়ার পর তাঁর প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায়।

 অভিযোগ রয়েছে, তিনি মন্ত্রণালয়ে ‘১২ সিন্ডিকেট’ নামে একটি শক্তিশালী গ্রুপ গড়ে তোলেন। মন্ত্রী ও পিএসের নাম ব্যবহার করে বদলি, নিয়োগ ও টেন্ডার-বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তাঁকে বদলি করা হলেও রহস্যজনকভাবে গত ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে তাঁকে পুনরায় শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে।

তিনি নুরুল ইসলাম নাহিদ, ডা. দীপু মনি এবং মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল—এই তিন মন্ত্রীর আমলেই নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হন। এমনকি ২০১৯ সালে তাঁকে বদলি করা হলেও মাত্র সাত দিনের মধ্যে তিনি আগের পদে ফিরে এসেছিলেন।

 নিজ জেলা পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রভাব খাটিয়ে নিজের ভাইকে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গত বছর স্থানীয়রা তাঁর দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভও করেছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে মুছিবুল হাসান রিপু দাবি করেছেন যে, তিনি নিয়ম মেনেই পদায়ন পেয়েছেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে শিক্ষা সচিবকে এ বিষয়ে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন:

“শিক্ষার গতি ফেরাতে দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাদের পদায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষায় যে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে, তা রোধ করতে বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।”

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ