দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে একটি সিন্ডিকেটমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য কাঠামো প্রয়োজন। তবে এই লক্ষ্য অর্জনের উপায় নিয়ে দলীয়ভাবে এখনো কোনো ঐক্যমত্য হয়নি।
একাংশের দাবি, একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করে সংগঠনের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করা উচিত। তাদের মতে, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ ছাড়া কার্যকর নেতৃত্ব নির্বাচন সম্ভব নয় এবং এতে তৃণমূলের কর্মীদের মূল্যায়নও নিশ্চিত হবে।
অন্যদিকে আরেকটি অংশ বলছে, বিএনপির ঐতিহ্যগত কাউন্সিল বা সিলেকশন পদ্ধতিই যথেষ্ট কার্যকর এবং কমিশনের প্রয়োজন নেই। তারা মনে করে, নতুন কোনো কাঠামো তৈরি হলে সংগঠনের ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল—তিনটি প্রধান অঙ্গ সংগঠনের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠন হয়নি। একইভাবে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির মেয়াদও শেষ হয়েছে, আর যুবদলের কমিটি আংশিকভাবে কার্যকর থাকলেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি।
একজন সাবেক ছাত্রদল সভাপতি বলেন, সংগঠনের অতীত গৌরব থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাস রাজনীতিতে তাদের অবস্থান দুর্বল হয়েছে। তাই এখন মেধাবী, গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর নেতৃত্ব নির্বাচন জরুরি।
অন্যদিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন যারা সংগঠনকে নিয়ে প্রচারণার বিপরীতে শক্ত অবস্থান নিতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে।
তবে ছাত্রদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাছির কমিশন গঠনের বিরোধিতা করে বলেন, কাউন্সিল বা সিলেকশন—এই দুই পদ্ধতির যেকোনো একটি অনুসরণ করলেই সংগঠন শক্তিশালী থাকবে। কমিশনের প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মত দেন।
স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতাদের মধ্যেও একই ধরনের মতভেদ রয়েছে। কেউ কমিশনের পক্ষে, কেউ আবার প্রচলিত পদ্ধতিকে সমর্থন করছেন। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন সিদ্ধান্তহীনতায় আটকে আছে।
দলের একাধিক সূত্র বলছে, তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা, কমিটি গঠন নিয়ে অভিযোগ এবং নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রভাবশালী গ্রুপের প্রভাব—সব মিলিয়ে সংগঠন পুনর্গঠন বিএনপির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
এ অবস্থায় দলের নীতিনির্ধারকরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। কমিশন হবে নাকি প্রচলিত পদ্ধতিতে পুনর্গঠন—এই প্রশ্নেই বিএনপি এখন গভীর দ্বিধায় রয়েছে।








