চুক্তির অধীনে দুই দেশ সর্বোচ্চ ৩,০০০ সেনা, ৫টি যুদ্ধজাহাজ এবং ১০টি সামরিক বিমান মোতায়েন করতে পারবে। পাশাপাশি বন্দর, বিমানবন্দর, জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ সুবিধা ভাগাভাগির সুযোগ থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবিক সহায়তায় যৌথ ব্যবস্থাও এতে অন্তর্ভুক্ত।
রাশিয়ার জন্য এই চুক্তি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যে মস্কো নতুন অংশীদারিত্ব বাড়াতে চায়, এবং এই কাঠামোর মাধ্যমে তারা ভারত মহাসাগর অঞ্চলে সরাসরি উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। এতে তাদের নৌ ও বিমান শক্তির বিস্তার আরও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ভারতের জন্যও এটি কৌশলগত সুবিধার সুযোগ তৈরি করেছে। ভারত রাশিয়ার আর্কটিক ও দূরপ্রাচ্যের বন্দর ব্যবহার করতে পারবে, উত্তর সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার পাবে এবং বিকল্প লজিস্টিক নেটওয়ার্কের সুবিধা পাবে। এতে ভারতের সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা আরও বৈচিত্র্যময় হবে বলে বিশ্লেষকদের মত।
চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ভারত একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখার অবস্থানে থাকছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট নয়, বরং একটি কৌশলগত লজিস্টিক সহযোগিতা কাঠামো, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে রেলোস চুক্তিকে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা শুধু দুই দেশের নয়, বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে।








