বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সকাল ১১টার দিকে শিক্ষার্থীদের মাঝে পাউরুটি, দুধ, কলা ও ডিম বিতরণ করা হয়। তবে খাবার গ্রহণের কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে বমি, তীব্র পেটব্যথা, মাথা ঘোরা এবং চোখে জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। মুহূর্তেই স্কুলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষক-অভিভাবকরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, এ ঘটনা হঠাৎ নয়; গত কয়েকদিন ধরেই একই খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। একজন অভিভাবক জানান, তার সন্তান কয়েকদিন আগে একই খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে বাড়িতে ছিল, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে শনিবার আবারও বড় পরিসরে একই ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে, কেউ বমি করছে, কেউ তীব্র পেটব্যথায় কাতরাচ্ছে। এতে বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা. মেফতাহুদ্দৌলা জানান, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গাক’-এর দেওয়া খাবার খাওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। বিষয়টি দ্রুত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয় এবং তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসেন খান বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাড়িতেও খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। যে খাবার খেয়ে এ ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো পরীক্ষার জন্য বিএসটিআইয়ে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত ওই খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ এপ্রিল একই জেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। সে ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করে। ধারাবাহিক এমন ঘটনায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মান ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।








