পেট্রোলিয়াম বা অপরিশোধিত তেল মূলত কোটি কোটি বছর ধরে জমে থাকা অতি সূক্ষ্ম সামুদ্রিক জীব, বিশেষ করে প্ল্যাঙ্কটন ও শৈবালের জৈব অবশিষ্টাংশ থেকে তৈরি হয়। সমুদ্র বা হ্রদের তলদেশে জমে থাকা এসব জৈব পদার্থ ধীরে ধীরে কাদা ও বালির নিচে চাপা পড়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ চাপ ও তাপের কারণে এগুলো রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কেরোজেন নামের জৈব যৌগে রূপান্তরিত হয়, যা থেকে পরবর্তীতে হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়ে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসে পরিণত হয়।
ভূতাত্ত্বিক গবেষণা অনুযায়ী, মেসোজোয়িক যুগে (প্রায় ২৫ কোটি থেকে ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে) বিপুল পরিমাণ জৈব পদার্থ জমা হলেও সেই সময়ের প্রধান উৎস ছিল ক্ষুদ্র সামুদ্রিক জীব, বড় স্থলজ প্রাণী বা ডাইনোসর নয়। ফলে ডাইনোসরের দেহ থেকে সরাসরি আজকের বিশাল পরিমাণ তেল তৈরি হয়েছে—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাইনোসরের দেহ থেকে কিছু অংশে জৈব উপাদান যুক্ত হতে পারে, তবে তা সামগ্রিক পেট্রোলিয়াম উৎপত্তির ক্ষেত্রে খুবই নগণ্য। মূল উৎস হিসেবে ধরা হয় সমুদ্রজীব ও উদ্ভিদের দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তর প্রক্রিয়াকে।
অতএব, ডাইনোসর ও তেলের সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা না গেলেও এটি জনপ্রিয় মিথের মতো সরাসরি বা প্রধান উৎস নয়। বিজ্ঞান বলছে, আজকের পেট্রোলিয়ামের আসল ভিত্তি হলো কোটি কোটি বছরের পুরোনো সূক্ষ্ম জৈব জীবের ধীর ও দীর্ঘ প্রাকৃতিক রূপান্তর প্রক্রিয়া।








