কিন্তু গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের নদী-খাল, পুকুর ও জলাভূমি ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, দূষণ, দখল এবং বনভূমি ধ্বংসের কারণে ভোঁদড়ের আবাসস্থল নষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে মাছের ওপর অতিরিক্ত চাপ ও মানব হস্তক্ষেপ ভোঁদড়ের খাদ্যসংকট তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পরিবেশ ধ্বংস নয়—মানুষের সরাসরি আচরণও ভোঁদড় কমে যাওয়ার বড় কারণ। কিছু এলাকায় এখনো ঐতিহ্যগতভাবে মাছ ধরার জন্য ভোঁদড় ব্যবহার করা হয়, যা প্রাণীগুলোর জীবনচক্র ও প্রজনন ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। খাঁচায় বন্দি অবস্থায় রাখার কারণে অনেক ভোঁদড় অকালেই মারা যাচ্ছে।
সুন্দরবন এখন ভোঁদড়ের অন্যতম শেষ আশ্রয়স্থল হলেও সেখানে তাদের সংখ্যা দ্রুত কমছে। জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং মানুষের অনুপ্রবেশ এই সংকট আরও বাড়াচ্ছে।
প্রাণিবিদদের মতে, ভোঁদড়কে ফিরিয়ে আনা সম্ভব—তবে তার জন্য প্রয়োজন কঠোর সংরক্ষণনীতি, নদী-খাল পুনরুদ্ধার এবং সচেতনতা বৃদ্ধি। ভোঁদড়কে শিকার বা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল পুনরায় তৈরি করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভোঁদড় শুধু বইয়ের পাতায় বা ছড়ার গল্পে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। তখন হয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সত্যিই প্রশ্ন করবে—ভোঁদড় কি কখনো ছিল?








