ট্রেকের শুরু ইয়াক খারকা থেকে থরংফেদি বেইস ক্যাম্প পর্যন্ত ধাপে ধাপে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাস হয়ে ওঠে ভারী। পিঠে প্রায় ১১ কেজি ওজনের ব্যাকপ্যাক নিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপেই শরীরে ক্লান্তি জমতে থাকে। পথের মাঝে বরফগলা নদী, কাঠের সেতু এবং খাড়া ঢাল পার হয়ে এগোতে হয় ট্রেকারদের।
থরংফেদি বেইস ক্যাম্পে পৌঁছে রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা নেমে যায় হিমাঙ্কের বহু নিচে। ঠাণ্ডা এতটাই তীব্র ছিল যে সাধারণ শেরপা জ্যাকেটও পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে পারছিল না। মধ্যরাতে শুরু হয় চূড়ান্ত যাত্রা—থরং লা পাসের দিকে। প্রায় সব ট্রেকারই অন্ধকারে টর্চের আলো নিয়ে পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে এগিয়ে যায়।
রাতের আকাশে অসংখ্য তারার নিচে বরফঢাকা পর্বতচূড়ার দৃশ্য ছিল অবিশ্বাস্য সুন্দর। তবে উচ্চতার কারণে অক্সিজেন কমে যাওয়ায় হাঁটা হয়ে ওঠে ধীর ও কষ্টকর। কখনো ১০ কদম, আবার কখনো ১০টি শ্বাস নিয়ে এগোতে হয় পথ। ধীরে ধীরে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ব আকাশে বরফচূড়াগুলো সোনালি রঙে রাঙিয়ে ওঠে, যা পুরো পরিবেশকে এক স্বপ্নময় দৃশ্যে পরিণত করে।
কঠিন চড়াই-উতরাই, শ্বাসকষ্ট আর শীতের সঙ্গে লড়াই শেষে অবশেষে ট্রেকাররা পৌঁছে যায় কাঙ্ক্ষিত থরং লা পাসে। সেখানে দাঁড়িয়ে দেখা যায় চারপাশজুড়ে বরফঢাকা বিশাল পর্বতমালা, নীল আকাশ আর বাতাসে উড়তে থাকা রঙিন প্রার্থনার পতাকা—যা এই উচ্চভূমির প্রতীক হয়ে আছে।
বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন ও উচ্চ পার্বত্য গিরিপথগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত থরং লা পাস শুধু একটি ট্রেকিং রুট নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সীমা অতিক্রমের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এখান থেকে নিচে নেমে যাত্রা শেষ হয় মুক্তিনাথে, যা এই দীর্ঘ অন্নপূর্ণা সার্কিট ট্রেকের সমাপ্তি বিন্দু।








