সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর স্বামীর যথাযথ চিকিৎসা করাননি, ফলে ধুঁকে ধুঁকে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বামীর দাফনের সময়ও তাঁর শ্বশুর কফিল উদ্দিন ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যান, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছিল।
স্বামীর মৃত্যুর পর দুই শিশুসন্তান—৯ বছরের মেয়ে এবং দেড় বছরের ছেলে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয়ের চেষ্টা করেন সোনিয়া। কিন্তু তাঁর শ্বশুর কফিল উদ্দিন ও শাশুড়ি তাঁদের বাড়িতে তুলে নিতে সরাসরি অস্বীকার করেন। সোনিয়া বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “স্বামীর ভিটায় থাকার অধিকারটুকুও আমাকে দেওয়া হচ্ছে না। এখন এই দুই অবুঝ সন্তান নিয়ে আমি কোথায় দাঁড়াব? আমার তো আর কেউ নেই। তাই বাধ্য হয়ে এখানে বসে আছি, আল্লাহ যদি কোনো ব্যবস্থা করেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার মানবিক দিক বিবেচনায় সোনিয়াকে সাময়িক আশ্রয় দিয়েছিলেন। তবে আইনি জটিলতার ভয়ে তাঁরা আর বেশিদিন তাঁকে রাখতে পারেননি। ফলে নিরুপায় হয়ে সোনিয়া স্বামীর কবরের পাশে মাটিতে বিছানা পেতে অবস্থান নিয়েছেন।
পারিবারিক বিরোধ যাই থাকুক, শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দাদা-দাদির অন্তত তাঁদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষকে ডেকে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। যদি মীমাংসা না হয়, তবে আদালতের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







