Search
Close this search box.

প্রেম, যুদ্ধ আর রুটি—বাকরখানির অজানা ইতিহাস

হাবিবা

ছবিঃ সংগৃহীত

পুরান ঢাকার খাবারের ঐতিহ্যে বাকরখানি একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। মচমচে ও হালকা মিষ্টি স্বাদের এই রুটিজাতীয় খাবার শুধু নাশতার অংশ নয়, বরং পুরান ঢাকার সংস্কৃতি ও ইতিহাসেরও প্রতীক। লালবাগ, নাজিমুদ্দিন রোড কিংবা চাঁনখারপুলের অলিগলিতে আজও ছোট ছোট দোকানে তৈরি হয় এই ঐতিহ্যবাহী খাবার।

রিকশার শব্দ আর পুরান ঢাকার ভিড়ভাট্টার মাঝেই ভেসে আসে তাজা বাকরখানির ঘ্রাণ। সময়ের পরিবর্তনে শহর বদলালেও এই খাবারের জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে নিত্যনাশতায়—বাকরখানি এখনও সমানভাবে সমাদৃত।

তবে এই খাবারের পেছনে রয়েছে একটি বহুল প্রচলিত জনশ্রুতি, যা এটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। কথিত আছে, বাকরখানির নাম এসেছে ‘আগা বাকের খাঁ’ ও ‘খনি বেগম’-এর করুণ প্রেমকাহিনি থেকে। আগা বাকের ছিলেন নবাব মুর্শিদ কুলী খাঁ-এর দত্তক পুত্র। বুদ্ধিমত্তা ও যুদ্ধকৌশলে দক্ষ এই যুবকের জীবনে প্রেম আসে নর্তকী খনি বেগমের মাধ্যমে।

গল্প অনুযায়ী, তাদের প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ান নগর কোতোয়াল জয়নাল খান। ঘটনার পরম্পরায় দ্বন্দ্ব, ষড়যন্ত্র এবং যুদ্ধের মাধ্যমে এই গল্প এক ট্র্যাজিক পরিণতিতে পৌঁছায়। শেষে খনি বেগমের মৃত্যু এবং বাকেরের নিঃসঙ্গ জীবন—এই কাহিনি লোকমুখে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে।

এই জনশ্রুতির ভিত্তিতেই বলা হয়, খনি বেগমের প্রিয় খাদ্য ছিল এক ধরনের রুটি, যা পরবর্তীতে ‘বাকের-খনি’ নামে পরিচিত হয় এবং ধীরে ধীরে অপভ্রংশ হয়ে আজকের ‘বাকরখানি’ নাম ধারণ করে।

যদিও ইতিহাসবিদরা বলেন, এই গল্পের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই এবং বাকরখানির উৎপত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত দলিলও পাওয়া যায় না, তবে পুরান ঢাকার মানুষের মুখে মুখে এই কাহিনি আজও বেঁচে আছে। কেউ কেউ মনে করেন, নবাব আমলেই এটি অভিজাত খাবার হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়।

সব মিলিয়ে বাকরখানি শুধু একটি খাবার নয়, এটি পুরান ঢাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আবেগের প্রতিচ্ছবি। প্রতিটি কামড়ে যেন মিশে থাকে একদিকে ঐতিহ্যের স্বাদ, অন্যদিকে হারিয়ে যাওয়া এক প্রেমকাহিনির স্মৃতি।



সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ