প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল সচিবালয়ে ক্রমবর্ধমান মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য জায়গার সংকট নিরসন এবং আধুনিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা। গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতায় প্রস্তাবিত এই ভবনটি ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ছিল। এতে ৪টি বেজমেন্টসহ ২১ তলা ভবন, ভূগর্ভস্থ জলাধার, উন্নত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, আধুনিক লিফট, সাব-স্টেশন, জেনারেটর এবং ২০টি কনফারেন্স রুম নির্মাণের কথা ছিল।
পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি একনেক সভায় বিস্তারিত উপস্থাপন করা হলেও কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তা অনুমোদন না দিয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে সচিবালয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও জনপ্রতিনিধি, বিদেশি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থা ও সাধারণ মানুষ আসা-যাওয়া করে। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামো ক্রমবর্ধমান চাপ সামলাতে পারছে না। নতুন ভবন নির্মিত হলে অতিরিক্ত চাহিদার প্রায় ৪২ শতাংশ স্থান সংকট পূরণ করা সম্ভব হবে বলে দাবি করা হয়।
তবে প্রকল্প অনুমোদন না পাওয়ায় প্রশাসনিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর আগে আরও গভীর পর্যালোচনা প্রয়োজন। আবার অনেকে মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে সচিবালয়ের কর্মপরিবেশ উন্নত করতে এমন প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
শিক্ষাবিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, সরকারি প্রশাসনিক কেন্দ্রের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন হলেও তা যেন বাস্তব চাহিদা, ব্যয় দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক (কাল্পনিক) বলেন, “সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় অবকাঠামো প্রকল্প গ্রহণের আগে বিকল্প ব্যবহার, জায়গার সর্বোচ্চ দক্ষ ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক পরিকল্পনা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।”
অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সব মিলিয়ে সচিবালয়ের ২১ তলা ভবন প্রকল্পটি আপাতত একনেকের অনুমোদন না পাওয়ায় থমকে গেছে। তবে প্রকল্পটি পুনরায় পর্যালোচনা শেষে ভবিষ্যতে আবার উপস্থাপন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।







