বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, জমি কমে যাওয়া ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা কৃষিখাতকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এসব মোকাবিলায় কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি, কৃষিযন্ত্র, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বিমা, পণ্য বিক্রয় সুবিধা, প্রশিক্ষণ এবং আবহাওয়া ও বাজার তথ্যসহ নানা সেবা পাবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকার কৃষি উৎপাদন বাড়াতে উন্নত বীজ, সুষম সার ব্যবহার এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিযন্ত্রে ভর্তুকি দিয়ে ট্রাক্টর, হারভেস্টারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করা হচ্ছে।
পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক উপযোগী ফসল নির্বাচন করা হচ্ছে। সিলেট ও চরাঞ্চলের পতিত জমি চাষযোগ্য করতে বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
ধাননির্ভর কৃষি থেকে বেরিয়ে ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুল চাষে গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ এবং রপ্তানি অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিয়ে উচ্চ ফলনশীল, রোগ প্রতিরোধী ও জলবায়ু সহনশীল ফসল উদ্ভাবনে কাজ চলছে। ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি’র আওতায় পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, কম সেচ ও কম রাসায়নিক ব্যবহার, এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তায় ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে লাখো ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ইতোমধ্যে উপকৃত হয়েছেন।








