তার মতে, দেশ এখন এমন এক অবস্থার দিকে যাচ্ছে যেখানে মুক্তবাজার অর্থনীতির পরিবর্তে ধীরে ধীরে “রেশনিং ব্যবস্থা” বা নিয়ন্ত্রণমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠছে। তিনি এই প্রবণতাকে অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত হিসেবে উল্লেখ করেন।
রনি বলেন, নতুন সরকার শুরু থেকেই অগোছালো অবস্থায় রয়েছে। সাধারণত একটি সরকারকে স্থিতিশীল হতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগে, কিন্তু বর্তমান সরকারের ৬০ দিনের কর্মকাণ্ডেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তিনি সরকারের বিভিন্ন “কার্ড” কর্মসূচি—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, এলপিজি কার্ড—ইত্যাদিকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, এসব উদ্যোগ আসলে রেশনিং ব্যবস্থার দিকে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়, যা মুক্তবাজার অর্থনীতির পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন,
“যখন কোনো পণ্যের চাহিদা বেশি কিন্তু সরবরাহ কম থাকে, তখনই রেশনিং হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এখন সেটাকেই নীতিগত ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।”
রনি দাবি করেন, ১৯৭০-এর দশকে বাংলাদেশে এ ধরনের রেশনিং ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছিল এবং তখন দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশ কি আবার কিউবা বা উত্তর কোরিয়ার মতো নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির পথে যাচ্ছে?
সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব ও উপদেষ্টাদের সক্ষমতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের ঘাটতি রয়েছে। ফলে নীতিনির্ধারণে দূরদর্শিতার অভাব দেখা যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে তিনি বলেন, এসব খাত সরকার এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করায় সংকট তৈরি হচ্ছে। তাঁর দাবি, বাজার উন্মুক্ত থাকলে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান দ্রুত সম্ভব হতো।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, প্রশাসন এখন অনেকটা “স্টেজ পারফরম্যান্স”-এর মতো পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে বাস্তব নীতির চেয়ে প্রচারণাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
রনি প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদদের বই পড়ার পরামর্শ দেন এবং বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় আবেগ নয়, বরং বাস্তব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন।
সবশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান নীতির ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে এবং জনগণের ওপর চাপ বাড়বে।








