নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বোতলজাত সয়াবিন তেলের প্রতি লিটারের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে খোলা সয়াবিন তেলের দামও ১৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে ভোজ্যতেলের খরচ আরও বেড়ে গেল, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে নতুন চাপ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ওঠানামা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, ডলারের মূল্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থার চাপের কারণে এই সমন্বয় করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মূল্য বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের দাবি ছিল, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে আগের দামে উৎপাদন ও বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে না।
এর আগে বাংলাদেশ ভেজিটেবল ওয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন একাধিকবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে। সর্বশেষ ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সেদিন বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ভোজ্যতেল একটি সংবেদনশীল পণ্য হওয়ায় বিষয়টি সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে।
তবে মূল্য বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের আগে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ভোক্তা সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) অভিযোগ করে, দেশে দীর্ঘদিন ধরে ভোজ্যতেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও বোতলের গায়ে লেখা দামের চেয়েও বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে বলে তারা দাবি করে। একই সঙ্গে খোলা সয়াবিন তেলের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
ক্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়মিত বাজার তদারকি, মজুতদারি বন্ধ এবং সরকার নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮২ থেকে ১৯৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছিল, যা নতুন সরকারি দামের চেয়েও বেশি। বোতলজাত ১ লিটার তেলের দাম আগে থেকেই ১৯৫ টাকা ছিল এবং ৫ লিটারের বোতল ৯৫০ থেকে ৯৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও আমদানি নির্ভরতার কারণে ভোজ্যতেলের দাম স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে করে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ ভেজিটেবল ওয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নতুন নির্ধারিত দাম আজ থেকেই কার্যকর হয়েছে। ফলে বাজারে এখন থেকেই এই দরে ভোজ্যতেল বিক্রি হওয়ার কথা।







