তেজগাঁওয়ের ক্ষেত্রে শিল্পায়ন একটি বড় ভূমিকা রাখে। ১৯৫০-এর দশকে এ এলাকাকে ঢাকার প্রধান শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হয়। কারখানা ও শ্রমিকদের সমাগম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন হয় সহজ ও সাশ্রয়ী পরিবহনের—যা পূরণ করে রিকশা। সরু রাস্তা ও ছোট গলির কারণে বড় যানবাহনের সীমাবদ্ধতা থাকায় রিকশাই হয়ে ওঠে প্রধান ভরসা।
এছাড়া তেজগাঁওয়ে গড়ে ওঠে অসংখ্য রিকশা গ্যারেজ ও মেকানিকদের নেটওয়ার্ক। এতে করে রিকশা চালকরা সহজেই গাড়ি মেরামত ও ভাড়া নিতে পারেন। ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম তৈরি হয়—রিকশা, চালক, গ্যারেজ ও সার্ভিস—যা এই এলাকাকে রিকশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে।
বর্তমানে তেজগাঁওয়ে ৫০টির বেশি রিকশা গ্যারেজ রয়েছে। আশপাশের বস্তিগুলোতে বসবাসকারী বহু মানুষের জীবিকা নির্ভর করে রিকশার ওপর। সকালে গ্যারেজ থেকে রিকশা নিয়ে বের হওয়া এবং সন্ধ্যায় ফিরে আসা—এটাই তাদের দৈনন্দিন জীবনচক্র। গ্যারেজগুলো শুধু যানবাহনের স্থান নয়, বরং সামাজিক কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে।
তেজগাঁওয়ের ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে সহজেই মহাখালী, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার কিংবা গুলশান-বনানীর মতো এলাকায় যাতায়াত করা যায়। ফলে সারাদিনই যাত্রী পাওয়া যায়, যা চালকদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করে।
তবে এই রিকশা-নির্ভরতা এখন কিছু সমস্যাও তৈরি করছে। গ্যারেজ ও ট্রাক স্ট্যান্ডের কারণে বসবাসের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবুও তেজগাঁওয়ের পরিচয় আজও রয়ে গেছে ‘রিকশার রাজত্ব’ হিসেবে।
সব মিলিয়ে, তেজগাঁওয়ের রিকশা শুধু পরিবহন নয়—এটি ঢাকার শিল্পায়ন, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম এবং নগর সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতীক।








