জানা গেছে, ওড়িশার কেওনঝড় জেলার বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী জিতু মুন্ডার বড় বোন কালরা মুন্ডার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ২০ হাজার রুপি জমা ছিল। বোনের মৃত্যুর পর সেই টাকা তুলতে জিতু ব্যাংকের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়, অর্থ উত্তোলনের জন্য যথাযথ প্রমাণপত্র ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
জিতু মুন্ডা বারবার ব্যাংক কর্মকর্তাদের জানান যে তার বোন মারা গেছেন। তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় ব্যাংক তার অনুরোধ গ্রহণ করেনি। শেষ পর্যন্ত ক্ষোভ ও হতাশা থেকে তিনি তার বোনের কবর থেকে দেহাবশেষ তুলে নিয়ে ব্যাংকে উপস্থিত হন।
তিনি দাবি করেন, মৃত ব্যক্তিকে জীবিত অবস্থায় আনা সম্ভব নয়—এই বাস্তবতা বোঝাতেই তিনি কঙ্কাল নিয়ে গেছেন। ব্যাংকের ভেতরে এমন দৃশ্য দেখে উপস্থিতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দেহাবশেষটি পুনরায় দাফনের ব্যবস্থা করে।
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, জিতু মুন্ডা প্রান্তিক ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ায় ব্যাংকিং নিয়ম-কানুন ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এ কারণে তিনি চরম হতাশা থেকে এই পদক্ষেপ নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে এবং তাকে আইনি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি তার বোনের জমানো অর্থ দ্রুত পেতে পারেন।








