তিনি একসময় হকি, কাবাডি ও অ্যাথলেটিকসের থ্রো ইভেন্টে পারদর্শী ছিলেন। ২০২৩ সালের যুব গেমসে শটপুট, হকি ও কাবাডিতে স্বর্ণপদক জিতে এক অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। ২০২০ সালে ঢাকায় হকির একটি ইভেন্টে অংশ নিতে এসে বিকেএসপি-র নারী ক্রিকেট ক্যাম্পের ট্রায়ালের খবর পান। মায়ের উৎসাহে ২০০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে লড়াই করে নিজের জায়গা নিশ্চিত করেন তিনি।
জয়িতার এই সাফল্যের পেছনের মূল কারিগর তাঁর মা, যিনি নিজে একজন ক্রীড়া শিক্ষক। আত্মীয়-স্বজন ও সমাজের মানুষের ‘মেয়ে হয়ে খেলাধুলা করে কী হবে?’—এমন নেতিবাচক প্রশ্নের মুখে মায়ের দৃঢ় অবস্থানই জয়িতার পথ সহজ করে দিয়েছিল। বিকেএসপি-র কঠোর পরিশ্রম আর কোচের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তিনি দ্রুত নিজেকে ঝালিয়ে নেন।
বিকেএসপি থেকে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট, সবখানেই ছিল জয়িতার আধিপত্য।
প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং উইকেটকিপিংয়ে শীর্ষে ছিলেন। শুরুতে মিডল অর্ডারে খেললেও কোচের পরামর্শে বর্তমানে তিনি একজন মারকুটে ওপেনিং ব্যাটার।
নেপালে টি-টোয়েন্টি অভিষেকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হয় তাঁর। বর্তমানে সামনে থাকা শ্রীলঙ্কা সিরিজ দিয়ে নিজের প্রথম ওয়ানডে অভিষেকের অপেক্ষায় রয়েছেন এই ক্রিকেটার।
মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক জগতেও জয়িতা সমান উজ্জ্বল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
ক্রিকেটের পর ভবিষ্যতে তিনি ক্রীড়া সাংবাদিকতায় নিজেকে যুক্ত করার স্বপ্ন দেখেন। তাঁর মতে, একজন খেলোয়াড় হিসেবে মাঠের অভিজ্ঞতা এই পেশায় দারুণভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।








