ইউরোপিয়ান এই শিল্প বর্তমানে বিশ্বজুড়ে শৌখিন গৃহসজ্জার একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এর চাহিদা বাড়ছে। মুড়ির টিন, চায়ের কেটলি, কাপ-সসার, ট্রে, টিস্যু বক্স, ল্যাম্পশেড, ফুলদানি, পানদানি থেকে শুরু করে নানা ধরনের ঘরোয়া সামগ্রী এখন ডেকোপেজ ডিজাইনে সাজানো হচ্ছে।
এই শিল্পে কাজ করা অনেকেই জানিয়েছেন, ইউটিউব ও অনলাইন মাধ্যম থেকে শিখেই তারা শুরু করেছেন। অল্প পুঁজি নিয়ে ঘরে বসেই কাজ শুরু করে এখন অনেকে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন। কেউ কেউ অনলাইনে কোর্সও চালু করেছেন, যার মাধ্যমে ঘরবন্দি গৃহিণীরাও আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন।
পেশাজীবীদের মধ্যেও এই শিল্পে আগ্রহ বাড়ছে। চিকিৎসক, শিক্ষার্থী এমনকি গৃহিণীরাও ডেকোপেজকে শখ থেকে পেশায় রূপ দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেজ খুলে তারা নিজেদের তৈরি পণ্য বিক্রি করছেন এবং ভালো সাড়া পাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেকোপেজ মূলত সূক্ষ্ম কাজ। একবার কাগজ আঠার সঙ্গে বসানোর সময় সামান্য ভুল হলে পুরো নকশা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ধৈর্য ও দক্ষতা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দেশে ডেকোপেজ উৎপাদন না হলেও চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে উপকরণ আমদানি করা হয়। অনলাইন মার্কেটপ্লেস এবং ফেসবুকভিত্তিক পেজগুলোতে এসব পণ্য সহজেই পাওয়া যায়।
ক্রেতাদের মধ্যে মূলত শৌখিন মানুষ, যারা ঘরকে আলাদা রূপ দিতে চান, তারাই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। উৎসব বা বিশেষ অনুষ্ঠানে ডেকোপেজ করা সামগ্রী আলাদা আকর্ষণ যোগ করছে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।
পুরনো জিনিস নতুনভাবে ব্যবহার করার সুযোগও তৈরি করছে এই শিল্প। কাঠ, কাচ, সিরামিক, মাটি, বাঁশ, এমনকি ধাতব পণ্যের ওপরও ডেকোপেজ করা যায়, যা পুরনো জিনিসকে নতুন জীবন দেয়।
যত্নের ক্ষেত্রেও কিছু সতর্কতা প্রয়োজন। শক্ত ঘষা বা হার্শ ক্লিনার ব্যবহার না করে হালকা সাবান ও নরম কাপড় ব্যবহার করলে ডেকোপেজ দীর্ঘদিন টিকে থাকে।








