ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (WTTC) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক পর্যটন প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রবাহের সঙ্গে তাল মিলাতে পারেনি। বিশেষ করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পর্যটন দ্রুত বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধি প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা, দীর্ঘ সময় ধরে চলা প্রশাসনিক ধীরগতি এবং সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা যাচাই ব্যবস্থা। এসব কারণে অনেক পর্যটক যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। পাশাপাশি কিছু দেশের ভ্রমণ সতর্কতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপ ও কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আগত পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী কানাডা থেকে পর্যটন প্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশটির পর্যটন আয়েও চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক পর্যটকরা সাধারণত স্থানীয় পর্যটকদের তুলনায় বেশি ব্যয় করেন, ফলে এই ঘাটতি হোটেল, পরিবহন, রেস্তোরাঁ ও খুচরা ব্যবসায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাত মূলত অভ্যন্তরীণ পর্যটনের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। যদিও দেশীয় পর্যটন অর্থনীতির একটি বড় অংশ জোগান দেয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারের ঘাটতি পূরণে তা যথেষ্ট নয় বলে মত বিশ্লেষকদের।
তাদের আশঙ্কা, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক পর্যটন বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে। অন্যদিকে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো ভিসা সহজীকরণ, পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সেবার মান বাড়িয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
তবে আশার আলোও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করবে। এই বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক আন্তর্জাতিক পর্যটক যুক্তরাষ্ট্রে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যা পর্যটন খাতে নতুন গতি ফিরিয়ে আনতে পারে।








