Search
Close this search box.

মাউশির ডাটাবেজ ব্যবহার করে বেসরকারি ফার্মের কোটি টাকার বাণিজ্য: উদ্বেগ ও বিতর্ক

অহনা

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সরকারি মাধ্যমিক শাখাকে বিনামূল্যে সফটওয়্যার তৈরি করে দেওয়ার নাম করে বিপুল বাণিজ্যিক ফায়দা ও সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘করপোরেট সিস্টেম সলিউশন’ (সিএসএস) নামে একটি আইটি ফার্মের বিরুদ্ধে। সরকারের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ ব্যবহার করে এবং মাউশির কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের সেবা নিতে কৌশলে বাধ্য করছে বলে জানা গেছে।

মাউশি দেশের সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের তথ্য আধুনিকায়নের জন্য ‘স্কুল ইনফরমেশন ব্যাংক’ (এসআইবি) এবং শিক্ষকদের তথ্যের জন্য ‘পিডিএস’ সফটওয়্যার চালু করে। মাউশি জানায়, বাজেট সংকটের কারণে সিএসএস এই সফটওয়্যার দুটি বিনামূল্যে তৈরি করে দিয়েছে। তবে এই ‘বিনামূল্যে’ কাজের আড়ালেই লুকিয়ে আছে বিশাল বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য।

সিএসএসের তৈরি করা পিডিএস সফটওয়্যারের নিচে তাদের নাম থাকায় প্রধান শিক্ষকরা একে সরকারি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান মনে করছেন।

সিএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক ব্যক্তিগত ইমেইল ও মোবাইল নম্বর সরকারি প্রজেক্টে ব্যবহার করছেন, যা সাধারণ শিক্ষকদের মনে এমন ধারণা দিচ্ছে যে তাদের বাণিজ্যিক সফটওয়্যার ‘পাঠশালা’ একটি সরকারি প্রকল্পের অংশ।

অভিযোগ উঠেছে, সিএসএস এসআইবির কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ ব্যবহার করে তাদের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘পাঠশালা’র মাধ্যমে স্কুল অটোমেশন করছে।

অটোমেশন সফটওয়্যারের জন্য প্রতি শিক্ষার্থী মাসে ২ টাকা চার্জ, এসএমএস প্রতি ৩৭ পয়সা, ডোমেইন ফি ৮৬৩ টাকা এবং হোস্টিং ফি ৩ হাজার টাকা করে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

 ইতিমধ্যে প্রায় ১৫০টি নামকরা স্কুল (যেমন: ধানমন্ডি বালক/বালিকা, তেজগাঁও সরকারি বালিকা, জিলা স্কুলগুলো) এই অটোমেশনের আওতায় এসেছে। সব স্কুল যুক্ত হলে প্রতি মাসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই কোটি টাকার বেশি আয় করবে সিএসএস।

পিডিএস এবং এসআইবি ডাটাবেজে শিক্ষকদের যোগদান, বদলি, ব্যক্তিগত তথ্য এবং শিক্ষার্থীদের সব একাডেমিক রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে। এসব সংবেদনশীল তথ্যের নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি একটি ফার্মের হাতে থাকায় বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 সরকারি তথ্য ভান্ডারের অ্যাকসেস বেসরকারি হাতে থাকলে তা বেহাত হওয়া বা জালিয়াতির কাজে ব্যবহারের ঝুঁকি থাকে।

 বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, “সরকারের উচিত নয় কোনো আইটি প্রজেক্ট বিনামূল্যে নেওয়া। এতে জবাবদিহি থাকে না এবং সরকারি তথ্যের গোপনীয়তা নষ্ট হয়।”

 বাজেট না থাকায় বিনামূল্যে সফটওয়্যার নেওয়া হয়েছে এবং ৩ বছরের চুক্তি আছে। তবে বাণিজ্য বা বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

 তিনি স্বীকার করেছেন যে ডাটাবেজ ম্যানেজ করার সুবাদে সেখান থেকে ডাটা নিয়ে অটোমেশনের কাজে ব্যবহার করছেন এবং ‘পাঠশালা’র জন্য সার্ভিস চার্জ নিচ্ছেন।

অনেক প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, মাউশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ভেবেই তাঁরা টাকার বিনিময়ে এই আইটি সেবা গ্রহণ করেছেন।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ