Search
Close this search box.

রাশিয়ার চালে হরমুজ পরিকল্পনায় ধাক্কা খেতে পারেন ট্রাম্প

হাবিবা

ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ Strait of Hormuz-কে ঘিরে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর কৌশল বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

United States ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে, যার ফলে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারছে না। এই অভিযানে মার্কিন নৌবাহিনীর আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরী, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ধ্বংসকারী জাহাজ, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড বা United States Central Command জানিয়েছে, ইতোমধ্যে একাধিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ২৫ শতাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এই পথ বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে বড় চাপে পড়েছে China, যা ইরানি তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবস্থানের কারণে বেইজিংয়ের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

তবে এখানেই পাল্টা চাল দিয়েছে Russia। বেইজিং সফরে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী Sergey Lavrov ঘোষণা দিয়েছেন, মস্কো চীনের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে সক্ষম এবং দুই দেশের সম্পর্ক যেকোনো পরিস্থিতিতে অটুট থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু চীনকে সহায়তা নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে রাশিয়ার প্রভাব বাড়ানোর কৌশল। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এদিকে, Iran-এর ওপর চাপ সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি করিডোরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করবে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি—এর মধ্যে ChinaRussia ঘনিষ্ঠতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনগুলোতে এই সংকট নির্ভর করবে ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং চীন-রাশিয়ার অবস্থানের ওপর—যা নির্ধারণ করতে পারে বিশ্ব রাজনীতি নতুন সংঘাতের দিকে যাবে, নাকি কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোবে।



সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ