মার্কিন নৌ-অবরোধ শুরুর পর প্রথম দিনেই পাল্টাপাল্টি দাবি সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তাদের কঠোর নজরদারির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারেনি। কিন্তু বিবিসি-এর অনুসন্ধানী তথ্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অবরোধের মধ্যেও অন্তত চারটি জাহাজ ওই পথ অতিক্রম করেছে, যা অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের তেল রপ্তানিতে দেওয়া কোনো ছাড় আর বাড়ানো হবে না। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মার্কিন অবরোধের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জঙ্গলের আইন’-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এ ধরনের একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে উত্তেজনার মাঝেও কিছু ইতিবাচক কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েল ও লেবানন দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হয়েছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশই ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে এবং শীর্ষ পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা একসঙ্গে চলতে থাকায় পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।







