Search
Close this search box.

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যাত্রী নিয়েই ফেরিতে উঠছে বাস

হাবিবা

ছবিঃ সংগৃহীত

গত ২৫ মার্চ বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাটে ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ২৬ জন নিহত হন। দুর্ঘটনার তিন দিন পর, ২৯ মার্চ নৌদুর্ঘটনা এড়াতে কঠোর নির্দেশনা দেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ফেরিতে গাড়ি ওঠানোর আগে শতভাগ যাত্রী নামানো এবং পন্টুনে নিরাপত্তা ব্যারিয়ার স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে এক মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। পাটুরিয়া ফেরিঘাটে সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘাটে আসা প্রায় প্রতিটি বাসই যাত্রী না নামিয়ে সরাসরি ফেরিতে উঠে যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা মানছেন না বাসের চালক ও সুপারভাইজাররা। যাদের তদারকি করার কথা, তাদের উপস্থিতিও ছিল না। সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছুক্ষণের জন্য দায়িত্বরতরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং যাত্রী নামানো শুরু করেন।

বাসের যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, ফেরিতে ওঠার আগে নামার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয় না। বরং বাস না থামিয়েই সরাসরি ফেরিতে তুলে দেওয়া হয়। রাবেয়া পরিবহনের যাত্রী শামীম বলেন, দুর্ঘটনার পর নিয়ম করা হয়েছে শুনলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। তিনি বলেন, কেউ নামতে বলেনি, ঝুঁকি নিয়েই ফেরিতে উঠতে হয়েছে।

অন্য যাত্রী জেসমিন বলেন, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার কারণে ভয় ছিল, কিন্তু চালক বা সুপারভাইজার কেউ নামতে বলেননি। যাত্রীদের মধ্যেও সচেতনতার অভাব রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

অন্যদিকে বাসচালকরা দায় চাপাচ্ছেন যাত্রী ও ঘাট কর্তৃপক্ষের ওপর। হানিফ পরিবহনের চালক রেজা বলেন, যাত্রীদের নামতে বলা হলেও অনেকেই গরমের কারণে নামতে চান না, বরং উল্টো আচরণ করেন। ঘাটে নির্দিষ্ট তদারকি থাকলে এ সমস্যা কমত বলে জানান তিনি।

রয়েল এক্সপ্রেসের সুপারভাইজার মইন স্বীকার করেন, যাত্রীসহ বাস ওঠানো ভুল। তিনি বলেন, অনেক সময় অসুস্থ যাত্রী বা তীব্র গরমের কারণে যাত্রীরা নামতে চান না, তবে ভবিষ্যতে নিয়ম মানার চেষ্টা করা হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় ঘাটতি। পন্টুনে নিরাপত্তা ব্যারিয়ার স্থাপনের নির্দেশনা থাকলেও এখনো তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। কিছু সরঞ্জাম আনা হলেও নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। দৌলতদিয়া ঘাটেও একই অবস্থা দেখা গেছে, যদিও কিছু ঘাটে আংশিক ব্যারিয়ার স্থাপনের দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

পাটুরিয়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, নিয়ম মেনেই বাস ওঠানো হচ্ছে। তবে শিফট পরিবর্তনের সময় কিছু বাস ফাঁকি দিয়ে উঠতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি। অন্যদিকে দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, নিয়ম আগে থেকেই থাকলেও এখন তা আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

ফেরি ব্যবহারকারীদের মতে, কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির অভাবেই এ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, প্রশাসনের কার্যকর তদারকি এবং চালক-যাত্রীদের সচেতনতা ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়।


সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ