Search
Close this search box.

টঙ্গীতে প্রেমের জেরে বাবা-ছেলে খুন

হাবিবা

ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানার উত্তর বনমালা এলাকায় বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। খালাতো বোনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ত্রিভুজ প্রেমের জেরে বড় ভাই সাইফুর রহমান সোহান হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিহত সোহেল রানার বড় ছেলে সোহান মহানগর হাকিম জুবায়ের রশিদের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দায় স্বীকার করে হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, সোহানের সঙ্গে তার খালাতো বোনের বিয়ের সম্পর্ক ঠিক হয়েছিল। তবে ছোট ভাই সাকিবুর রহমানের সঙ্গে ওই তরুণীর গোপন সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহান জানান, ঘটনার রাতে পারিবারিক কলহের পর তিনি ছোট ভাই সাকিবের ওপর হামলা করেন। তাকে হাত-পা বেঁধে ধারালো ব্লেড দিয়ে গুরুতর আঘাত করেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাটি স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করেন।

এরপর পাশের কক্ষে থাকা বাবা সোহেল রানা ঘটনাটি দেখে ফেলেন বলে দাবি করা হয়। বিষয়টি গোপন করতে সোহান বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে রেললাইনের দিকে নিয়ে যান। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দুইজন ব্যক্তিকে একজনকে রেললাইনের দিকে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

পুলিশ জানায়, রেললাইনে ফেলে দেওয়ার পর ট্রেনের নিচে পড়ে বাবার মৃত্যু হয় কি না, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

গত ২৬ এপ্রিল ভোরে টঙ্গীর উত্তর বনমালা এলাকায় ঘরের ভেতর থেকে ছোট ছেলে সাকিবুর রহমানের মরদেহ এবং রেললাইন থেকে বাবা সোহেল রানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

নিহত সোহেল রানা একসময় প্রবাসী ছিলেন এবং পরে টঙ্গীতে বসবাস শুরু করেন। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি দুই ছেলের দেখাশোনা করতেন। ছোট ছেলে সাকিব ঢাকার একটি কলেজে পড়াশোনা করতেন এবং পাশাপাশি চাকরিও করতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।


সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ