পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লি বা রিঅ্যাক্টর কোরে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) প্রবেশ করানোর চূড়ান্ত কারিগরি প্রক্রিয়াকেই ফুয়েল লোডিং বলা হয়। এটি কোনো সাধারণ পদ্ধতি নয়, বরং অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া।
এখানে কয়লা বা তেলের বদলে ব্যবহার করা হয় ইউরেনিয়াম পেলেট। ৫ গ্রাম ওজনের প্রতিটি পেলেটকে জিরকোনিয়াম অ্যালয় টিউবের ভেতর সাজিয়ে তৈরি করা হয় ‘ফুয়েল অ্যাসেম্বলি’।
একটি বিশেষ ‘রিফুয়েলিং মেশিন’ বা ফুয়েল লোডিং মেশিনের সাহায্যে এই কাজ করা হয়। বিকিরণ প্রতিরোধের জন্য রিঅ্যাক্টর ভ্যাসেল তখন পানিতে পূর্ণ থাকে।
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্ধারিত স্থানে বসানো হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে। লোডিং শেষে যখন নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হবে, সেই পর্যায়কে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’।
জ্বালানি লোডিং শুরু হলেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পেতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে।বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় (১২০০ মেগাওয়াট) পৌঁছাবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার তথ্যমতে, এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করবে এবং প্রায় ২ কোটি মানুষ সরাসরি এর সুফল ভোগ করবেন।






