Search
Close this search box.

হকার পুনর্বাসনে আসছে জাতীয় নীতিমালা

হাবিবা

ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার ফুটপাত ও সড়কে ব্যবসা করা প্রান্তিক হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকার একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে, যা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কমিটিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক এবং উপসচিব (সিটি-১) রবিউল ইসলামকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন, ডিএমপি ও রাজউকের প্রতিনিধিরা এতে যুক্ত রয়েছেন। কমিটির মূল লক্ষ্য হলো—ফুটপাত দখলমুক্ত করা, যানজট কমানো এবং হকারদের বিকল্প সুবিধাজনক স্থানে পুনর্বাসনের একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি করা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নীতিমালার প্রাথমিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে আরও বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। নীতিমালা প্রণয়ন শেষে তা স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে জমা দেওয়া হবে।

এর আগে এপ্রিলের শুরুতে রাজধানীতে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে অভিযান চালায়। ওই অভিযানে জরিমানা, কারাদণ্ড এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও, পুনর্বাসনের অভাবে কয়েক দিনের মধ্যেই ফুটপাতগুলো আবার দখল হয়ে যায়। গুলিস্তান, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত ও সায়েন্সল্যাবসহ বিভিন্ন এলাকায় আগের মতোই হকারদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

হকারদের দীর্ঘদিনের দাবি—পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়। তারা জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, অর্থনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং বৈধভাবে ব্যবসার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন ১০ দফা দাবি তুলে ধরে।

এদিকে, হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ৮টি নৈশ মার্কেট চালুর পরিকল্পনা করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দিনে ফুটপাত দখল কমবে এবং হকাররাও নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসার সুযোগ পাবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নীতিমালা ছাড়া হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই সরকার যদি সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে পারে, তবে নগরজীবনে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকাও সুরক্ষিত হবে।


সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ