কওমি শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বিভিন্ন সময়ের চিঠিতে অসংগতি লক্ষ্য করা গেছে:
বুয়েটের এক অধ্যাপকের চিঠির প্রেক্ষিতে ইউজিসি জানিয়েছিল যে, কওমি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাসঙ্গিক বিষয়ে স্নাতক (অনার্স) পড়ার যোগ্য। কিন্তু বাস্তবে কওমি সনদ দিয়ে বুয়েটে ভর্তির কোনো নজির নেই।
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ‘কিউ সেকশন’ চালু করে অনার্স পড়ার সুযোগ দেয়। কিন্তু তখনকার কওমি সনদ দিয়ে বিসিএস বা সরকারি চাকরিতে আবেদনের সুযোগ আজ পর্যন্ত তৈরি হয়নি।
২০১৮ সালে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দিয়ে আইন পাস হলেও জটিলতা কমেনি। বর্তমানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, যেহেতু কওমি শিক্ষার্থীদের প্রচলিত এসএসসি বা এইচএসসি নেই, তাই তারা সরাসরি মাস্টার্স করতে পারলেও অনার্স করতে পারবে না।
অনেকেই মনে করছেন কওমি সনদের সাথে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রি থাকলে ঘাটতি মিটে যাবে। তবে এখানে বড় কিছু বাধা রয়েছে:
অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা দাবি করলেও বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশে অনার্স ডিগ্রি ছাড়া সরাসরি মাস্টার্সের সনদ দিয়ে পিএইচডি বা এমফিল করার কোনো সুযোগ নেই।
যেখানে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ চাওয়া হয়, সেখানে শুধুমাত্র এই খণ্ডিত মাস্টার্স সার্টিফিকেট দিয়ে আবেদন করা প্রায় অসম্ভব। এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের জেনারেল সনদ না থাকলে এই ডিগ্রিগুলো আইনিভাবে দুর্বল থেকে যায়।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি:
যদি স্রেফ জ্ঞান অর্জনের জন্য ডিগ্রি নিতে চান, তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারেন। কিন্তু একে চাকরির মূল হাতিয়ার ভাবলে ভুল হবে।
কওমি সনদের স্বীকৃতির বিষয়টি যতক্ষণ না পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হচ্ছে এবং জেনারেল শিক্ষার সাথে এর সেতুবন্ধন (এসএসসি/এইচএসসি সমমান) তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ এই সার্টিফিকেটগুলো অনেক ক্ষেত্রেই মূল্যহীন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হয়ে ইউজিসির সর্বশেষ নীতিমালা এবং সরকারি চাকরির বিধিমালার সাথে ডিগ্রির সামঞ্জস্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।





