মুদি দোকানদারদের অভিযোগ, ২০ কার্টনের চাহিদা দিলে কোম্পানিগুলো মাত্র ২-৪ কার্টন সরবরাহ করছে। মিল মালিকদের সংগঠন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৭ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। ৫ লিটারের বোতলের দাম ১,০২০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন ১৮৫ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি ও তদারকি সত্ত্বেও রাজধানীর বাজারগুলোতে তেলের সংকট প্রকট:
বাড্ডা, নয়াবাজার ও কাওরান বাজারের অধিকাংশ দোকানে ১ ও ২ লিটারের বোতলজাত তেল নেই। ৫ লিটারের বোতলে খুচরা ব্যবসায়ীদের লাভ ৫ টাকা কমিয়ে দিয়েছে ডিলাররা।
নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৩৪ টাকা বেশি অর্থাৎ ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন। বড় বড় ডিলাররা জানাচ্ছেন, কোম্পানি থেকে চাহিদার মাত্র ২০-২৫ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে তাঁরা খুচরা বাজারে জোগান দিতে পারছেন না।
কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বাড়ার অজুহাত দিচ্ছে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে ভিন্ন কথা:
বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৭০ হাজার টন তেল মজুত আছে।আরও ৩ লাখ ৬০ হাজার টন তেল আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে। অর্থাৎ, দেশে ভোজ্যতেলের কোনো বাস্তব ঘাটতি নেই; যা হচ্ছে তা পুরোপুরি কৃত্রিম।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার ভোক্তা স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
“মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা থাকলেও দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে এই সময়ে যেন কোনো পণ্যের দাম না বাড়ে।”
এর আগে গত নভেম্বরে সরকারের অনুমতি ছাড়াই কোম্পানিগুলো তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল, যা নিয়ে সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। এবার তেমন পরিস্থিতি ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।








