গত এক দশকে নীল আলো নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার করলে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়, ফলে মানুষ দেরিতে ঘুমায় এবং পরদিন ক্লান্তি অনুভব করে। এসব ফলাফলের কারণে নীল আলোকে ঘুমের প্রধান শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা শুরু হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন, এই ধারণার অনেকটাই অতিরঞ্জিত। গবেষকদের মতে, ল্যাবরেটরিতে যেসব পরীক্ষা করা হয়, সেগুলো বাস্তব জীবনের পরিবেশকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করে না। সেখানে খুব কম আলোতে রেখে হঠাৎ তীব্র আলো দেওয়া হয়, যা স্বাভাবিক দৈনন্দিন ব্যবহারের সঙ্গে মেলে না। বাস্তবে মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিন থেকে যে পরিমাণ আলো নির্গত হয়, তা তুলনামূলকভাবে অনেক কম এবং ঘুমে এর প্রভাব সাধারণত খুব সীমিত—গড়ে কয়েক মিনিটের মতো।
তাহলে ঘুমের সমস্যা বাড়ছে কেন—এই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ জীবনযাত্রার পরিবর্তন। আধুনিক জীবনে মানুষ দিনে কম প্রাকৃতিক আলো পায়, আবার রাতে কৃত্রিম আলোতে দীর্ঘ সময় কাটায়। ফলে শরীর দিন-রাতের স্বাভাবিক পার্থক্য ঠিকভাবে বুঝতে পারে না। একই সঙ্গে মোবাইল ব্যবহার করার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও দেখা বা গেম খেলার মতো মানসিকভাবে উদ্দীপক কাজগুলো ঘুম বিলম্বিত করে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কেউ যদি নীল আলো এড়িয়ে চলেও, তাতে ঘুমের মোট সময় খুব বেশি পরিবর্তন হয় না। তবে ঘুমের সময়সূচি কিছুটা নিয়মিত হতে পারে। অর্থাৎ, সমস্যার মূল জায়গা শুধু আলো নয়; বরং আমরা কীভাবে সময় কাটাই এবং কখন বিশ্রাম নিই, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নীল আলো সম্পূর্ণ নির্দোষ নয়, তবে এটিই ঘুমের প্রধান শত্রু—এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য প্রয়োজন সঠিক জীবনযাপন, নির্দিষ্ট সময়ের রুটিন এবং ঘুমানোর আগে মানসিকভাবে শান্ত থাকা।








