ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ফাহমিদার জীবনেও এমন সংগ্রামের গল্প রয়েছে। গ্রামে থাকা বাবা কৃষিকাজ করে সংসার চালান। সবসময় প্রয়োজনমতো টাকা পাঠাতে না পারায় ফাহমিদাকে মাঝেমধ্যে অর্থকষ্টে পড়তে হয়, যা তার পড়াশোনায় প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে শাহনেওয়াজের গল্পও একই রকম বাস্তবতার প্রতিফলন। অসুস্থ বাবার কারণে সংসারের দায়িত্ব এসে পড়েছে মায়ের ওপর। পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের চাপ, সেমিস্টার পরীক্ষা ও শিক্ষা সফরের খরচ—সব মিলিয়ে তিনি পড়েন দুশ্চিন্তায়।
এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে পেয়েছেন অনেক তরুণ। যেমন রওনক, যিনি একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির কল সেন্টারে পার্টটাইম কাজ শুরু করেন। সপ্তাহে চার দিন পাঁচ ঘণ্টা কাজ করেও তিনি পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটতে দেননি। বরং এতে তার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহীর নিজের সমস্যার সমাধান খুঁজে পান টিউশনির মাধ্যমে। প্রথমে শিক্ষার্থী পড়ানো শুরু করে পরে একটি কোচিং সেন্টারে পার্টটাইম লেকচারার হিসেবে যুক্ত হন। এতে শুধু তার হাতখরচের সমস্যা মিটেনি, বরং পড়াশোনায়ও মনোযোগ আরও বেড়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন পথ খুঁজে পান। তিনি ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরু করে গ্রাফিক ডিজাইন ও ওয়েব ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে মাসে ১০-১২ হাজার টাকা আয় করছেন। এতে তার পড়াশোনা ও কাজের প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী দুরদানা আর্থিক সমস্যায় না পড়লেও নিজেকে ব্যস্ত রাখতে এবং দক্ষতা বাড়াতে একটি ফ্যাশন হাউসে পার্টটাইম কাজ করছেন। সপ্তাহে তিন দিন কাজ করেও তার পড়াশোনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে তরুণরা বুঝে গেছেন—শুধু পড়াশোনা নয়, পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন ও কাজ করাও জরুরি। কল সেন্টার, টিউশনি, ফ্রিল্যান্সিং কিংবা পার্টটাইম চাকরি—এসবের মাধ্যমে তারা নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছেন।
এই উদাহরণগুলো দেখায়, সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করে সফল হওয়া সম্ভব। এতে শুধু অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানই হয় না, বরং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়তেও সহায়ক ভূমিকা রাখে।








