Search
Close this search box.

স্বপ্নভঙ্গ ও বিষাদ: কুয়েত ফেরত প্রবাসীর বিমানবন্দরেই করুণ মৃত্যু

অহনা

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে আর উন্নত জীবনের আশায় সুদূর কুয়েতে পাড়ি জমিয়েছিলেন নুরুল ইসলাম সাগর (৩৫)। কিন্তু বৈধ কাগজপত্রের জটিলতায় জেল খেটে দেশে ফেরার পথেই সব স্বপ্নের যবনিকা ঘটল। শনিবার (১৮ এপ্রিল, ২০২৬) দিবাগত রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পরপরই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় ফেনীর পরশুরামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত নুরুল ইসলাম সাগর পরশুরাম উপজেলার দক্ষিণ শালধর গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়ার ছেলে। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে গত বছরের আগস্টে তিনি ‘ফ্রি ভিসায়’ কুয়েত গিয়েছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার পর বৈধ কাগজপত্র না থাকার অভিযোগে কুয়েত পুলিশ তাঁকে আটক করে। দীর্ঘ ১৫ দিন জেল খাটার পর শনিবার তাঁকে বিমানে করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

শনিবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দরে নামার পরই বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে লুটিয়ে পড়েন সাগর।

 বিমানবন্দরের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাঁকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সাগরের অকাল মৃত্যুর পেছনে শারীরিক অসুস্থতার চেয়ে মানসিক দুশ্চিন্তাকেই বড় কারণ হিসেবে দেখছে তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশীরা।

 সাগরের ছোট বোন শেফালী আক্তার ও প্রতিবেশী জামসেদুল আলম জানান, সাগর স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন (চিথলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি)। দেশে ফিরলে হামলা-মামলা বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় তিনি চরম মানসিক চাপে ছিলেন।

 সাগরের স্ত্রী বিবি খাদিজা এবং নুসাইবা ও তানজিম রিহান নামে দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। মাত্র ৯ মাস বয়সী শিশুসন্তানকে রেখেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হলো তাকে।

পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, পাসপোর্টের ঠিকানা অনুযায়ী রাতেই পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সাগরের মরদেহ দাফন করার কথা রয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ