Search
Close this search box.

শজনে: পুষ্টি ও ঔষধি গুণে ভরপুর ‘মাল্টিভিটামিন বৃক্ষ’

হাবিবা

ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের অতি পরিচিত সবজি শজনে বা শজনেপাতা শুধু একটি সাধারণ খাদ্য নয়, বরং এটি সারা বিশ্বে “সুপারফুড” হিসেবে পরিচিত। পুষ্টিগুণ, ঔষধি বৈশিষ্ট্য এবং সারা বছর ফলন পাওয়ার কারণে শজনেগাছকে বলা হয় “মাল্টিভিটামিন বৃক্ষ”।

শজনেগাছ প্রধানত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে বেশি জন্মে এবং এর প্রায় প্রতিটি অংশই ব্যবহারযোগ্য। পাতা, শুঁটি, শিকড়, বীজ, ফুল—সবই খাদ্য ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে শজনেপাতা পুষ্টিগুণে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ৯ ধরনের অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, উচ্চমাত্রার প্রোটিন (প্রায় ৩৮%), আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন এ, বি ও সি।

শজনের বীজে থাকে প্রোটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এ বীজ থেকে তেল উৎপাদন করা যায়, যা রান্না ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হয়। এমনকি বীজ গুঁড়া করে পানীয় জল বিশুদ্ধ করার কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব।

পুষ্টিবিদদের মতে, শজনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ত্বক ও চুলের জন্য খুব উপকারী। শুধু খাদ্য নয়, এর ঔষধি গুণও বিস্ময়কর। আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি চিকিৎসায় শজনের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বলা হয়, এটি শতাধিক রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।

শুকনা শজনেপাতায় কমলালেবুর তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভিটামিন সি, দুধের চেয়ে বেশি ক্যালসিয়াম, গাজরের চেয়ে বেশি ভিটামিন এ এবং পালং শাকের তুলনায় অনেক বেশি আয়রন পাওয়া যায়। ফলে এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল কমানো এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

এছাড়া শজনে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ব্যথা ও ফোলা কমায়, হজমশক্তি উন্নত করে এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, হাঁপানি ও বিভিন্ন সংক্রমণ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এমনকি ত্বকের ক্ষত সারানো, চুল পড়া কমানো এবং শরীরের বিষাক্ত উপাদান দূর করতেও এটি কার্যকর।

সব মিলিয়ে, শজনে শুধু একটি সবজি নয়—এটি একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যসমাধান, যা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে সাহায্য করে।


সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ