বৈঠকে দেশের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক খাতে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন এবং সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। আলোচনায় প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য, বিজ্ঞান ও জ্ঞানমূলক বই পড়ার আগ্রহ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বৈঠকে সংগঠনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের ফলে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ গঠনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্কুল–কলেজ পর্যায়ে লাইব্রেরি কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
সরকারি পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচিকে একটি জাতীয় পর্যায়ের আন্দোলনে রূপ দিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বই পড়ার পরিবেশ উন্নয়ন, লাইব্রেরি আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত পাঠচক্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীল চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা গড়ে তুলতে পাঠাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণও অপরিহার্য।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই পড়ার আন্দোলন ও পাঠচক্র কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, সরকারের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের ফলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হবে।








