Search
Close this search box.

খুলনার মুহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘গণফেল’: শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে দেড়শ বছরের ঐতিহ্য

অহনা

খুলনা মহানগরীর দেড়শ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ সরকারি দৌলতপুর মুহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় বর্তমানে তীব্র শিক্ষক সংকটে জর্জরিত। পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে। সম্প্রতি বিদ্যালয়টির নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ‘গণফেল’ এবং পরবর্তীতে বিশেষ ব্যবস্থায় পাশের ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় এক করুণ চিত্র ফুটে ওঠে। ১২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জনই গণিতে অকৃতকার্য হয়।

বিজ্ঞান বিভাগের ৮ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ২৭ জন এবং মানবিক বিভাগের ১৬ জন শিক্ষার্থী ফেল করে।বিষয়টি জানাজানি হলে স্কুলের ভাবমূর্তি রক্ষার তাগিদে কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে এক মাসের মাথায় ৫০ নম্বরের একটি ‘বিশেষ’ পরীক্ষা নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে অকৃতকার্য সবাইকে পাশ করিয়ে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। দায় এড়াতে অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিতও নিয়ে রেখেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

১৮৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠটি ২০১৬ সালে সরকারিকরণ করা হয়। বর্তমানে এখানে প্রায় ৬০০ ছাত্র অধ্যয়নরত থাকলেও পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেই:

২৫ জন শিক্ষকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪ জন

বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য রয়েছেন মাত্র ৬ জন শিক্ষক।হিসাববিজ্ঞান, কম্পিউটার, কৃষিশিক্ষা ও ইসলাম শিক্ষা পড়ানোর জন্য কোনো নিয়মিত শিক্ষকই এখন বিদ্যালয়ে নেই।

১৮৯৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী স্বীকৃতি পাওয়া এই স্কুলটি একসময় খুলনার গর্ব ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে এখানে শিক্ষার মান ক্রমাগত নিম্নমুখী। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের ফলাফল আরও খারাপ হয়েছে। পাশের হার সন্তোষজনক হলেও সরকারি স্কুল হিসেবে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য।

বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার শিক্ষক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন:

“হিসাববিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় আমাদের অন্যভাবে ম্যানেজ করতে হয়। নবম শ্রেণির ফল বিপর্যয়ের পেছনে করোনার প্রভাব এবং ছাত্রদের নিয়মিত ক্লাসে না আসা দায়ী। আমি কাউকে উত্তীর্ণ করতে চাইনি, কিন্তু অভিভাবকদের চাপে পরবর্তীতে পরীক্ষা নিয়ে তাঁদের লিখিত রেখে উত্তীর্ণ করা হয়েছে।”

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ