Search
Close this search box.

পিরোজপুরের ২০০ বছরের মৃৎশিল্প ধ্বংসের মুখে

হাবিবা

ছবিঃ সংগৃহীত

প্রায় দুই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প এখন বিলুপ্তির মুখে পিরোজপুর জেলায়। একসময় জেলার কাউখালীর সোনাকুড়, সদর, মঠবাড়িয়া ও নাজিরপুর এলাকায় হাজারো পরিবার এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যা কমে এখন কয়েক শত পরিবারে এসে ঠেকেছে।

এক সময় মাটির তৈরি হাঁড়ি, কলসি, পুতুল ও খেলনার ব্যাপক চাহিদা ছিল গ্রামীণ জীবন ও উৎসবকে কেন্দ্র করে। বিশেষ করে পহেলা বৈশাখ ঘিরে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা থাকত বছরের অন্যতম আকর্ষণ। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।

প্লাস্টিকের দাপটে সংকট

স্থানীয় কারিগররা জানান, বাজারে প্লাস্টিকের সহজলভ্যতা এবং কম দামের কারণে মাটির পণ্যের চাহিদা দ্রুত কমে গেছে। এতে করে এই শিল্পে যুক্ত পরিবারগুলো আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছে।

অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছেন। কেউ কেউ ঋণের বোঝা নিয়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন, আবার অনেকে এলাকা ছেড়েও চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

কারিগরদের দুর্দশা

পিরোজপুর সদর ও কাউখালী এলাকার মৃৎশিল্পীরা জানান, আগে যেখানে উৎসব মৌসুমে দিনরাত কাজ করতেন, এখন সেখানে কাজের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। যে সামান্য কাজ পাওয়া যায়, তার পারিশ্রমিক দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

একজন কারিগর বলেন, দিনে দুই থেকে আড়াইশো টাকা আয় দিয়ে পরিবার চালানো সম্ভব নয়। ফলে নতুন প্রজন্মও এই পেশায় আসতে আগ্রহী নয়।

ঐতিহ্য হারানোর শঙ্কা

মৃৎশিল্পীরা মনে করেন, যথাযথ সরকারি সহায়তা না পেলে এই শতাব্দীপ্রাচীন শিল্প পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে। তারা সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং বাজার সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, পরিবেশবান্ধব এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প টিকিয়ে রাখতে প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং মৃৎশিল্পকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া জরুরি।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃৎশিল্পের এই সংকট দীর্ঘদিনের। আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, পুঁজির সংকট এবং বাজার হারানোর কারণে অনেক পরিবার এ পেশা ছেড়ে দিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম বিবেচনায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।



সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ