রূপ বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। দিনে অন্তত দুইবার গোসল করলে শরীরের ঘাম ও ময়লা দূর হয় এবং ত্বক সতেজ থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘরে ফিরে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলে আরাম পাওয়া যায়।
শরীরের যেসব জায়গায় ঘাম বেশি জমে, যেমন বাহু, গলা, বুকের নিচে বা পায়ের আঙুলের ফাঁকে—সেখানে গোসলের পর ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করলে আর্দ্রতা কমে এবং ত্বক শুষ্ক থাকে।
গরমে পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা জরুরি। ঢিলেঢালা ও হালকা কাপড় পরলে শরীরের ভেতর বাতাস চলাচল করতে পারে, ফলে ঘাম কম হয় এবং ত্বক স্বস্তি পায়। পা ঢাকা জুতার বদলে স্যান্ডেল ব্যবহার করাও আরামদায়ক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
মেকআপের ক্ষেত্রেও ভারী সাজ এড়িয়ে চলা উচিত। হালকা মেকআপ বা বিবি ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বক স্বাভাবিক থাকে এবং অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। অনেকেই ‘নো মেকআপ লুক’ অনুসরণ করছেন, যা গরমে বেশি উপযোগী।
রোদ থেকে ত্বক রক্ষায় সানস্ক্রিন ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে বের হওয়ার আগে মুখ, গলা ও খোলা ত্বকের অংশে ভালো মানের এসপিএফযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে কয়েকবার পুনরায় ব্যবহার করতে হবে।
শুধু সানস্ক্রিন নয়, রোদ থেকে সরাসরি সুরক্ষার জন্য ছাতা ও রোদচশমাও ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ইউভি প্রতিরোধক ছাতা এবং বড় আকারের সানগ্লাস ত্বক ও চোখকে অতিরিক্ত রোদ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
গরমে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দিনে অন্তত দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করার পাশাপাশি ফলের রস, লেবুর শরবত এবং ডিটক্স ওয়াটার শরীর ও ত্বকের জন্য উপকারী।
ত্বকের অতিরিক্ত গরম ও জ্বালাপোড়া কমাতে ঘরে ফিরে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা নেওয়া, গোলাপজল বা শসার রস ব্যবহার করা এবং মাঝে মাঝে আইস থেরাপি ব্যবহার করলে আরাম পাওয়া যায়। নিয়মিত হালকা স্ক্রাবিংও ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
সব মিলিয়ে, গরমে ত্বকের সুস্থতা ও সতেজতা বজায় রাখতে নিয়মিত যত্ন, সঠিক অভ্যাস এবং সচেতন জীবনযাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।








