Search
Close this search box.

হলের গেস্টরুমে ছাত্রলীগের ‘নির্যাতন সংস্কৃতি’: নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন সাবেক নেতা

অহনা

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ‘গেস্টরুম’ ও ‘গণরুম’ সংস্কৃতির আড়ালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সংস্কৃতি চালু ছিল, তার এক ভয়ংকর বিবরণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরেছেন ছাত্রলীগেরই এক সাবেক নেতা। নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী এবং স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাবেক উপ-দপ্তর সম্পাদক আরিফ ইশতিয়াক রাহুল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল, ২০২৬) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তাঁর জীবনের সেই ভয়াবহ রাতের স্মৃতি চার বছর পর প্রকাশ্যে আনেন।

রাহুল তাঁর পোস্টে জানান, ২০২২ সালের ১৪ এপ্রিল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর প্রথম পহেলা বৈশাখ। ছোটবেলা থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার এবং হল থেকে বের হয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার। সেই স্বপ্নের কথা মনে করে তিনি লেখেন:

বৈশাখের আগের রাতে আজিজ সুপার মার্কেট থেকে পাঞ্জাবি কেনা এবং এপ্রিলের শুরু থেকেই প্রতিদিন হেঁটে চারুকলায় গিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি দেখা ছিল তাঁর জন্য অত্যন্ত আনন্দের।

তৎকালীন সময়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরুদ্ধে মৌলবাদী গোষ্ঠীর অপপ্রচারের প্রতিবাদ হিসেবে তাঁর এই শোভাযাত্রায় যাওয়ার আগ্রহ আরও বেড়ে গিয়েছিল।

ঘটনার দিন খুব ভোরে রাহুল পহেলা বৈশাখের নতুন পাঞ্জাবি-পাজামা পরে তাঁর ১০৩ নম্বর গণরুম থেকে বের হচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে সিঁড়ি দিয়ে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনকে নামতে দেখেন।

 রাহুল সাদ্দাম হোসেনকে সালাম দিয়ে একটি ছবি তোলার অনুরোধ করেন। সাদ্দাম হোসেন অন্ধকারে ছবি ভালো আসবে না বলে তাঁকে হল গেটে যেতে বলেন।

রাহুলের বর্ণনা অনুযায়ী, হল গেটে তৎকালীন হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম মুনসহ পুরো হল কমিটির নেতারা সাদ্দাম হোসেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সাদ্দাম হোসেন মুনের উদ্দেশে বলেন, “দাঁড়াও, ও একটা ছবি তুলতে চায়।”

রাহুল তাঁর পোস্টে গেস্টরুমে ‘আদব-কায়দা’ শেখানোর নামে ছাত্রলীগের জুনিয়র কর্মীদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হতো, তাকে ‘ভয়ানক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আক্ষেপ করে লেখেন:

দল ক্ষমতায় থাকাকালে এই সত্য বললে সাংবাদিকরা লুফে নিতেন এবং ছাত্রলীগ চাপে পড়ত—এই ভয়ে তখন তিনি মুখ খোলেননি। তিনি লেখেন, “আমি অবাক হয়ে গেলাম, এ কেমন ছাত্রলীগ যারা মঙ্গল শোভাযাত্রায় যাওয়ার জন্য এভাবে মারছে?”

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ