বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটারের মধ্যে ৮৫০ কিলোমিটার এলাকা অত্যন্ত দুর্গম। বিশেষ করে ১৭৫ কিলোমিটার নদী ও জলাভূমি এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া প্রায় অসম্ভব। বিএসএফ-এর দাবি, এই ফাঁকা জায়গাগুলোই অপরাধের প্রধান রুট।
এই পরিকল্পনা জানাজানি হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গবেষক অংশুমান চৌধুরী এবং অ্যাক্টিভিস্ট হর্ষ মান্দার একে ‘বায়োপলিটিক্যাল ভায়োলেন্স’ বা প্রকৃতির মাধ্যমে মানুষের ওপর সহিংসতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, সাপ বা কুমির কখনো সাধারণ নাগরিক ও অপরাধীর পার্থক্য করতে পারবে না।
মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, এটি মূলত সীমান্ত সংলগ্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে আতঙ্কিত করার একটি অপকৌশল, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা এই পরিকল্পনার ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন:
কুমির বা সাপ যদি ওই অঞ্চলের স্থানীয় না হয়, তবে তাদের প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।বন্যার সময় এই বিষধর সাপগুলো লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়লে ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশের সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি চরমভাবে বাড়বে।
আধুনিক বিশ্বে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্তে বন্যপ্রাণীকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের নজির নেই। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে এমন চিন্তাভাবনা করেছিলেন বলে গুঞ্জন থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। বিএসএফ-এর অনেক কর্মকর্তাই ব্যক্তিগতভাবে এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও, বর্তমানে এর মাঠ পর্যায়ের সমীক্ষা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি চলছে।







