রংপুরের তিন ডিপোতে মাসে প্রায় আড়াই কোটি লিটার তেলের চাহিদা থাকলেও গত মাসে চট্টগ্রাম থেকে এসেছে মাত্র ২১ লাখ লিটার, যা চাহিদার ক্ষুদ্র একটি অংশ মাত্র।
যমুনা ও পদ্মা ডিপোতে বর্তমানে কোনো তেলের মজুত নেই। মেঘনা ডিপোতে সামান্য মজুত থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় নগণ্য।
রেলপথে তেল আসা বন্ধ হওয়ায় ফিলিং স্টেশন মালিকরা বাঘাবাড়ী বা পার্বতীপুর থেকে সড়কপথে তেল আনার চেষ্টা করছেন।
সড়কপথে তেল পরিবহনে খরচ অনেক বেশি হওয়ায় অনেক পাম্প মালিক তেল আনা বন্ধ রেখেছেন।
তেল সরবরাহ না থাকায় রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের প্রায় ৬০০ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
রেলের নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, দেশে ২৯৭টি ইঞ্জিনের মধ্যে অর্ধেকেরই আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। মিটারগেজ ইঞ্জিনের তীব্র সংকটের কারণে রেশনিং পদ্ধতিতে পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে, যেখানে জ্বালানি তেলের মতো জরুরি পণ্যও আটকা পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুলনা থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত আসা ব্রডগেজ লাইনটি মাত্র ৫০ কিলোমিটার সম্প্রসারিত করে রংপুরের সাথে যুক্ত করলে এই স্থায়ী সংকট দূর করা সম্ভব হতো।
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানিয়েছেন, সংকট মোকাবিলায় পাম্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠক এবং ‘অ্যাপভিত্তিক’ তেল সরবরাহের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যাতে একজন গ্রাহক এক দিনে এক জেলার বেশি তেল নিতে না পারেন এবং কালোবাজারি রোধ করা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুরের অধিকাংশ পাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন, কোথাও কোথাও পাম্প বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।








