Search
Close this search box.

শেরপুরে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিদ্যুৎ বিপর্যয়: ৯৬ ঘণ্টা ধরে অন্ধকারে ৫০ গ্রাম

অহনা

টানা চার দিন ধরে চলা কালবৈশাখী ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কবলে পড়ে শেরপুর জেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। ঝড়ে অসংখ্য গাছ ও ডালপালা বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর ভেঙে পড়ায় জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি গ্রামের মানুষ গত ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুর পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, পল্লী বিদ্যুতের এই বিপর্যয়ে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

গত ২৫ এপ্রিল রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়ের পর বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

 বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা চললেও বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না।

ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি এলাকায় বন্য হাতির উপদ্রব ঠেকাতে বৈদ্যুতিক আলো অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যুৎ না থাকায় ফসল রক্ষা করা এবং চার্জার লাইট বা মোবাইল ব্যবহার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

মোবাইল চার্জ দিতে না পারায় অনেক এলাকার মানুষ নেটওয়ার্ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

 নওকুচি, গান্ধিগাঁও, সন্ধ্যাকুড়া, হালচাটি, কালিবাড়ি ও তাওয়াকুচাসহ ১০-১২টি গ্রাম টানা ৪ দিন ধরে অন্ধকারে। রানিশিমুল, সিংগাবর্ণা, কাকিলাকুড়া ও তাঁতিহারি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন।বাতকুচি, খলচন্দা, বারোমারী ও নন্নীসহ সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোতে সংযোগ নেই।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দাবি, লোকবল সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মেরামত কাজে দেরি হচ্ছে।

প্রকৌশলী সূর্য নারায়ণ ভৌমিক জানান, ইমার্জেন্সি সাপোর্ট দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত লোকবল তাদের নেই। বৃষ্টির মধ্যে লাইন ঠিক করলেও পুনরায় ঝড়ে তা আবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রকৌশলী মো. মাইনউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা সীমিত। তবে ঝিনাইগাতীর পাহাড়ি এলাকায় হাতির নিরাপত্তার খাতিরে প্রশাসনের অনুরোধে কিছু এলাকায় লাইন বন্ধ রাখা হয়েছে।

শ্রীবরদী ইউএনও মনীষা আহমেদ জানান, এসএসসি পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ সচল রাখতে বারবার বলা হলেও পল্লী বিদ্যুৎ তা কার্যকর করছে না। ঝিনাইগাতী ইউএনও মো. আল-আমীন দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ