বছরের মোট বজ্রপাতের ৩৮ শতাংশ ঘটে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে। এর মধ্যে এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের মাঝামাঝি (বৈশাখ মাস) সময়টি সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। বছরের বাকি ৫১ শতাংশ বজ্রপাত হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে।
দেশের পশ্চিমাঞ্চলে সাধারণত শেষ বিকেলে বা সন্ধ্যার দিকে কালবৈশাখী হয়, কিন্তু পূর্বাঞ্চলে তা হয় সন্ধ্যার পরে। আকাশে ‘বজ্রমেঘ’ দেখে সাধারণত ২-৩ ঘণ্টা আগেই ঝড়ের আভাস পাওয়া সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা জায়গায় মানুষের উপস্থিতিই বজ্রপাতে মৃত্যুর প্রধান কারণ। বিশেষ করে কৃষক, জেলে বা মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষেরা ঝড়ের সময় বাইরে থাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন। এছাড়া নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং অসচেতনতা এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রদত্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নিরাপদ আশ্রয়: বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে নিরাপদ হলো পাকা দালানের ভেতর থাকা। ঝড়ের পূর্বাভাস পেলে দ্রুত কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন। ভবনের ছাদ বা উঁচু স্থানে যাওয়া মোটেও নিরাপদ নয়। ২. ঘরের ভেতরে অবস্থান: জানালার কাছাকাছি বা বারান্দায় থাকবেন না। জানালা বন্ধ রাখুন এবং ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন। ৩. গাড়িতে থাকাকালীন: গাড়ির ধাতব অংশের সাথে শরীরের সংযোগ ঘটাবেন না। সম্ভব হলে গাড়িটি কোনো নিরাপদ ছাউনির নিচে পার্ক করুন। ৪. বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম: মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভি, ফ্রিজসহ সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন এবং এগুলোর প্লাগ খুলে রাখুন। ৫. উঁচু স্থান পরিহার: উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, মোবাইল টাওয়ার বা ধাতব খুঁটি থেকে দূরে থাকুন। ৬. ছাতা ও জুতার ব্যবহার: ধাতব হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করবেন না। প্লাস্টিক বা কাঠের হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। বাইরে বের হলে অবশ্যই রাবারের জুতা পরিধান করুন। ৭. খোলা মাঠে করণীয়: যদি খোলা মাঠে থাকেন এবং কাছাকাছি আশ্রয় না থাকে, তবে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসে পড়ুন। মাটিতে শুয়ে পড়া যাবে না। ৮. নৌকা ও মাছ ধরা: বজ্রপাতের সময় মাছ ধরতে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। নৌকায় থাকলে দ্রুত ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন। ৯. ধাতব স্পর্শ বর্জন: বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং বা পাইপ স্পর্শ করবেন না। ১০. দলবদ্ধ অবস্থান: খোলা স্থানে অনেকে একত্রে থাকলে প্রত্যেকে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরত্বে সরে যান। ১১. আহত ব্যক্তির চিকিৎসা: বজ্রপাতে কেউ আহত হলে দ্রুত হাসপাতালে নিন। আহত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দন ফিরিয়ে আনার প্রাথমিক চেষ্টা (CPR) চালিয়ে যেতে হবে।








