Search
Close this search box.

জ্বালানি সংকটে রপ্তানি বাণিজ্যে অশনিসংকেত: আস্থা হারাচ্ছেন বিদেশি ক্রেতারা

অহনা

দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত (RMG) ও এর সহযোগী শিল্পগুলো গভীর সংকটে পড়েছে। নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, পোশাক রপ্তানি টানা ৮ মাস ধরে কমছে। শিল্পোদ্যোক্তারা জানিয়েছেন:

কারখানাগুলোতে প্রতিদিন ৩ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। ঘণ্টার হিসেবে উৎপাদন হওয়ায় ১ ঘণ্টা দেরিও বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ জ্বালানি শূন্য হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক বায়ার তাদের ক্রয়াদেশ ভারতসহ অন্যান্য প্রতিযোগী দেশে স্থানান্তর করছেন।জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা এবং জালের চড়া দামের কারণে উৎপাদন খরচ গত ১৫ দিনে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প সংগঠনগুলোর নেতারা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন:

  • বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান: তিনি জানান, ডিজেল সংকটে উৎপাদন সচল রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বায়ারদের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে যে বাংলাদেশ সময়মতো শিপমেন্ট দিতে পারবে না। প্রতিবাদস্বরূপ তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমেরিকান ক্রেতাদের কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

  • বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান: সাভার ও আশুলিয়া এলাকার ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফুয়েল কার্ড দিলেও পাম্পে পর্যাপ্ত তেল মিলছে না। বাড়তি খরচ দিয়ে তেল কিনতে গিয়ে ব্যবসায়িক সক্ষমতা হারাচ্ছে উদ্যোক্তারা।

  • বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার: এক্সেসরিজ খাতের উৎপাদন ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ায় ঈদের আগে শ্রমিক অসন্তোষ এবং ক্ষুদ্র কারখানাগুলো ব্যাংক ডিফল্টার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ