Search
Close this search box.

নওগাঁয় চার খুনের নেপথ্যে জমিজমা বিরোধ: পুলিশ হেফাজতে নিহতের বাবাসহ ৪

অহনা

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হতে শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এটি কোনো ডাকাতি বা দস্যুতা নয়, বরং জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নিহত হাবিবুর রহমানের পরিবারের চার সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন:

  • নমির উদ্দিন (৭০): নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা।

  • ডালিমা ও হালিমা: নিহত হাবিবুর রহমানের দুই বোন।

  • সবুজ রানা (২৫): নিহতের ভাগনে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে নিহতের স্ত্রীর কানে স্বর্ণের গহনা অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা থেকে স্পষ্ট যে এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা ছিল না। তিনি বলেন:

“প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি জমিজমা বা পারিবারিক কোনো গভীর বিরোধের জের। পুলিশের একাধিক ইউনিট একযোগে কাজ করছে এবং আমরা খুব দ্রুতই মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করতে পারব।”

সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন:

  • হাবিবুর রহমান (৩২)

  • পপি সুলতানা (২৫): হাবিবুর রহমানের স্ত্রী।

  • পারভেজ (৯): ছেলে।

  • সাদিয়া আক্তার (৩): মেয়ে।

প্রতিবেশীরা ফজরের নামাজের পর বাড়ির দরজা খোলা দেখে ভেতরে গিয়ে চারজনের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন।

নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, হাবিবুর রহমানের বোন শিরিনা এবং তাঁর ছেলে সবুজ রানা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে শিরিনার সঙ্গে হাবিবুরের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল এবং ইতিপূর্বে তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ