নিজস্ব সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, ‘তৌসকা’ নামের প্রায় ৯০০ ফুট দীর্ঘ জাহাজটি নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করেছিল। সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় নৌবাহিনী জাহাজটির ইঞ্জিন অংশে গুলি চালিয়ে সেটিকে থামাতে বাধ্য করে এবং পরে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেয়।
তবে এ ঘটনাকে ভিন্নভাবে দেখছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং সরাসরি আগ্রাসী পদক্ষেপ। ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, ওমান সাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটির চলাচল অচল করা হয়েছে এবং পরে সেখানে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তারা এই ঘটনাকে ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে দ্রুত এর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এই ঘটনার ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এমন পদক্ষেপ যেকোনো সময় পরিস্থিতিকে নতুন দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। তবে ইরান এখনো এতে অংশগ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো অবস্থান জানায়নি। বরং দেশটি ইঙ্গিত দিয়েছে, অবরোধ চলতে থাকলে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা কম।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ। এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ইতোমধ্যে সীমিত আকারে জাহাজ চলাচল হওয়ায় সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নৌ অবরোধ কৌশলগতভাবে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি উপায়। তবে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে। একই সঙ্গে এটি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকেও পরিস্থিতিকে ঠেলে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, জাহাজ আটক করার এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এমন উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।







