Search
Close this search box.

রাজনৈতিক প্রভাবে আইসিটির গ্রহণযোগ্যতা হারানোর ঝুঁকি: ডেভিড বার্গম্যানের সতর্কবার্তা

অহনা

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত মামলাগুলো যদি প্রমাণের চেয়ে রাজনৈতিকভাবে বেশি প্রভাবিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) তার বিশ্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ব্রিটিশ সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী ডেভিড বার্গম্যান এক ফেসবুক পোস্টে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল, ২০২৬) রাতে দেওয়া পোস্টে তিনি বর্তমান বিচার প্রক্রিয়ার গতিপ্রকৃতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বার্গম্যান তাঁর বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাদের পাইকারি হারে গ্রেফতারের পর থেকেই বিচারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল।

তাঁর মতে, কিছু মামলা ক্রমশ ‘প্রমাণভিত্তিক নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত’ বলে ধারণা তৈরি হচ্ছে। যদিও অন্য কিছু মামলায় প্রমাণের ভিত্তি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।

বার্গম্যান লিখেছেন, রাজনীতিকীকরণের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল যদি তার নিরপেক্ষতা হারায়, তবে এটি সামগ্রিক বিচারিক প্রক্রিয়ার বৈধতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সুনির্দিষ্ট উদাহরণ হিসেবে বার্গম্যান রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর মামলার প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার মামলায় ফজলে করিমসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে গত ৫ এপ্রিল প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।

 তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফজলে করিমকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করার মতো পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক প্রমাণ তদন্তকারী ও প্রসিকিউটরদের কাছে আছে কি না। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া এমন হাই-প্রোফাইল মামলা বিচারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আইসিটিকে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠন করা হয়।

 বিক্ষোভ দমনে সংঘটিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ বিচার করার দায়িত্ব দেওয়া হয় এই ট্রাইব্যুনালকে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এখানে বেশ কিছু মামলা চলমান রয়েছে এবং ইতিমধ্যে কয়েকটি মামলার রায়ও এসেছে।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ