২০২৪ সালের অক্টোবরে আয়ারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পাদিত ঐতিহাসিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় গত ১৫ এপ্রিল তাঁকে আটক করা হয়।
আয়ারল্যান্ডের একটি আদালতের জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইরিশ পুলিশ একে আন্তঃরাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছে
২০১৬ সালে ডাবলিনের রিজেন্সি হোটেলে এক হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়ার পর কিনাহান দুবাইয়ে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি এক বিশাল অপরাধ ও ব্যবসার সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন:
দুবাইয়ের করপোরেট রেকর্ড অনুযায়ী, কিনাহান ও তাঁর ভাই খাদ্য, পোশাক এবং বস্ত্র ব্যবসার আড়ালে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
গোয়েন্দাদের মতে, কিনাহান একটি ‘সুপার কার্টেল’ গঠন করেছিলেন, যা ইউরোপের কোকেন ব্যবসার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করত। এই ব্যবসার বার্ষিক বাজার মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার।
বক্সিং প্রমোশন এবং টাইসন ফুরির মতো বিশ্বখ্যাত বক্সারদের ডিলমেকার হিসেবে কাজ করে তিনি কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন।
২০২২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচার ও অর্থপাচারের দায়ে কিনাহানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও দুবাইয়ে তাঁর বিলাসবহুল জীবনযাত্রা অব্যাহত ছিল।
তাঁর বাবা ক্রিস্টোফার কিনাহান সিনিয়রও দুবাইয়ে বসবাস করছেন। ২০২০ সালে তাঁর সংশ্লিষ্ট একটি কোম্পানি মিশরীয় বিমান বাহিনীর কাছ থেকে ৯টি সামরিক পরিবহন বিমান কেনার অপচেষ্টা চালিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল।
আয়ারল্যান্ডের বিচার ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী জিম ও’ক্যালাঘান এই গ্রেফতারকে স্বাগত জানিয়েছেন। আয়ারল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর আগে তাঁর অন্যতম সহযোগী শন ম্যাকগভর্নকেও দুবাই থেকে আয়ারল্যান্ডে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।








