Search
Close this search box.

কোন তেলে কী পুষ্টি ও কীভাবে ব্যবহার করবেন—জানুন বিস্তারিত

হাবিবা

ছবিঃ সংগৃহীত

রান্নায় ব্যবহৃত ভোজ্যতেল আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সব তেল এক রকম নয়—প্রতিটি তেলের পুষ্টিগুণ, ফ্যাটের ধরন এবং ব্যবহার পদ্ধতি ভিন্ন। তাই সঠিক তেল নির্বাচন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পুষ্টিবিদদের মতে, তেলে মূলত তিন ধরনের ফ্যাট থাকে—স্যাচুরেটেড, মনো-আনস্যাচুরেটেড এবং পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট। এর মধ্যে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকলে তা রক্তের ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়ায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। অন্যদিকে মনো ও পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরের জন্য তুলনামূলকভাবে উপকারী এবং ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়াতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু তেলের ধরন নয়, রান্নার তাপমাত্রা বা “স্মোক পয়েন্ট”ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেই তাপমাত্রায় তেল পুড়ে গিয়ে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিক্যাল তৈরি করে, সেটিই স্মোক পয়েন্ট। তাই উচ্চ তাপমাত্রার রান্নায় উপযুক্ত তেল ব্যবহার না করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সয়াবিন তেল

দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত তেল হলো সয়াবিন। এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম এবং আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকায় এটি ভাজাপোড়া ও দৈনন্দিন রান্নার জন্য উপযোগী। তবে কিছু গবেষণায় অতিরিক্ত ব্যবহারে ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সরিষার তেল

সরিষার তেলে মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকলেও এতে ইরিউসিক এসিড থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। তাই এটি পরিমিত ব্যবহার করা উচিত।

সানফ্লাওয়ার তেল

এই তেলে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ থাকে, যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ভাজাপোড়ায় এটি ক্ষতিকর যৌগ তৈরি করতে পারে।

রাইসব্র্যান তেল

রাইসব্র্যান তেল হৃদরোগ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়। এর স্মোক পয়েন্ট বেশি হওয়ায় এটি বিভিন্ন ধরনের রান্নায় ব্যবহারযোগ্য। তবে নিম্ন রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েলকে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর তেলগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। এটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, হৃদরোগ প্রতিরোধ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে উচ্চ তাপে রান্নার জন্য এটি উপযুক্ত নয়; সালাদ বা কম তাপে রান্নায় ব্যবহার করা ভালো।

ক্যানোলা অয়েল

ক্যানোলা অয়েলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট খুব কম এবং ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন ‘ই’ থাকে। তবে অতিরিক্ত ব্যবহারে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের রান্নায় একক কোনো তেলের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন তেলের সুষম ব্যবহার স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করতে পারে।


সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ