শিয়ালমারা হাওরের কৃষক আমজদ আলী জানান, মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে জমিতে ধান চাষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে একরাতেই জমি পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন আবুল মিয়া, হাসান আলী ও সৈকত মিয়াসহ অনেক কৃষক।
তাদের ভাষ্য, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে পাকা ধান তলিয়ে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। শ্রমিক সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বজ্রপাতের আতঙ্কে অনেক শ্রমিক হাওরে কাজ করতে আসছেন না। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ৭ হাজার হেক্টর জমির ধান জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টরের ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত ধান কাটতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং শ্রমিক সংকট নিরসনে বাইরে থেকে শ্রমিক আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ধান কেটে উঁচু স্থানে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার সব নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছালেও এখনও নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড়ি ঢলে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি এমনই যে, একদিকে ফসলহানি, অন্যদিকে ঋণের বোঝা—সব মিলিয়ে হাওরের কৃষকদের জীবনে নেমে এসেছে গভীর অনিশ্চয়তা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





