বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের পেছনে কেবল প্রাকৃতিক কারণ নয়, বরং বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও সরকারি বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতাই মূল কারণ। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার বকেয়া জমে আছে, যার ফলে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রয়োজনীয় জ্বালানি কিনতে পারছে না। অন্যদিকে অর্থ বিভাগ নানা শর্ত আরোপ করে ভর্তুকির টাকা ছাড়ে বিলম্ব করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার মেগাওয়াট হলেও বাস্তবে সেই সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। শনিবার দুপুরে চাহিদা ছিল প্রায় ১৪ হাজার ৫৭৪ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ দেওয়া হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ২৮৭ মেগাওয়াট—ফলে ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে লোডশেডিং বেড়ে গিয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
জ্বালানি সংকটও এ সমস্যার বড় কারণ। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অনেকগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না—কখনো কয়লার অভাবে, কখনো আর্থিক জটিলতায়। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিল বকেয়া থাকায় তারা জ্বালানি আমদানি বা এলসি খুলতে পারছে না।
এছাড়া বিদ্যুৎ ও অর্থ বিভাগের মধ্যে নীতিগত মতবিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভর্তুকির অর্থ ছাড়ে নানা শর্ত আরোপ এবং নতুন নতুন বিধিনিষেধ বিদ্যুৎ খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কেন্দ্রগুলোকে অর্থ পরিশোধ করা যাচ্ছে না, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, বকেয়া বিল পরিশোধ এবং নীতিগত জটিলতা দূর না করলে সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। আপাতত বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।








