শিল্প মন্ত্রণালয়ের নীতি, আইন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অনুবিভাগের যুগ্মসচিব সুলতানা ইয়াসমীন জানিয়েছেন, দেশে ইভি ও এর যন্ত্রাংশ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। খসড়া ইতোমধ্যে স্টেকহোল্ডারদের মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এবং দ্রুতই চূড়ান্তকরণের কাজ শেষ হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, পরিবহন খাত বর্তমানে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের অন্যতম বড় উৎস। তাই জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের বিকল্প হিসেবে ইভির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এই উদ্যোগকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নীতিমালার ভিশন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ইভি শিল্পকে একটি শক্তিশালী উৎপাদন খাতে রূপান্তর করা হবে। মিশন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো।
নীতিমালায় ইভি খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে একাধিক প্রণোদনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আমদানিতে কম শুল্কহার, ২০৩০ সাল পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর অব্যাহতি, এবং ২০৪০ সাল পর্যন্ত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য আয়কর ছাড়। পাশাপাশি ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনেও কর সুবিধা থাকবে।
এ ছাড়া ইলেকট্রিক যানবাহনের নিবন্ধন ফি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো, চার্জিং স্টেশন স্থাপন সম্প্রসারণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণেও চার্জিং সুবিধা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের যানবাহন ক্রয়ে অন্তত ৩০ শতাংশ ইলেকট্রিক ভেহিকেল অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে দেশে জ্বালানি সাশ্রয়, পরিবেশ দূষণ হ্রাস এবং নতুন শিল্প খাতের বিকাশ ঘটবে। একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে রপ্তানি সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, ইভি খাত শুধু পরিবেশবান্ধব পরিবহন নয়, বরং ভবিষ্যৎ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হতে যাচ্ছে, যা দেশে নতুন কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পায়নের দ্বার খুলে দেবে।







