বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই খাতে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই ঘাটতি কমাতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড তিনটি বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে লাইফলাইন গ্রাহক ছাড়া অন্যান্য আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভায় আলোচনার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সম্ভাবনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ইতোমধ্যে জ্বালানি তেল ও এলপি গ্যাসের দাম বাড়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ বলছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শুধু বিদ্যুৎ বিলই নয়, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য খরচও বাড়বে, ফলে জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরাসরি দাম বাড়ানোর আগে বিদ্যুৎ খাতের অপচয় ও অদক্ষতা কমানোর দিকে নজর দেওয়া জরুরি। তাদের মতে, উৎপাদন ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব নির্ধারণ এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে পারলে ঘাটতির চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
জ্বালানি বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে ব্যয় তুলনামূলক কমানো সম্ভব। এতে উচ্চ ব্যয়যুক্ত বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ভর্তুকির চাপও হ্রাস পাবে।
সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। যদিও আগে দুই বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি সেই অবস্থান পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে কি না এবং হলে কতটা বাড়ানো হবে—এ সিদ্ধান্ত এখন মন্ত্রিসভার ওপর নির্ভর করছে। তবে যেকোনো সিদ্ধান্তই দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





